পারসেভারেন্সের প্রোগ্রামিং ও যত প্রযুক্তি

৪ এপ্রিল, ২০২১ ১২:০৮  
যুগে যুগে মানুষকে মহাকাশ  আকর্ষণ  করেছে । মানুষ কল্পনায় চাঁদে গিয়েছে । বিস্ময় নিয়ে বিভিন্ন গ্রহ নক্ষত্রকে পর্যবেক্ষণ করেছে , যার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই চন্দ্রবিজয়ের মাধ্যমে নতুন যুগের সৃষ্টি হয় । এরপর বহুবার মানুষ মহাকাশে গেছে । অসংখ্য কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে । কিন্তু মানুষের দৃষ্টি এখানেই শেষ হয়নি । বহু আগে থেকেই মঙ্গল গ্রহ নিয়ে মানুষের অনেক আগ্রহ। বহু সায়েন্স ফিকশন গল্প , উপন্যাস লেখা হয়েছে, বহু সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে এ নিয়ে। মঙ্গল গ্রহের সাথে পৃথিবীর কোথায় যেন একটা সংযোগ রয়েছে । বিজ্ঞানীরা দিনের পর দিন এ নিয়ে গবেষণা করছে। যার ফলশ্রুতিতে  ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই সর্ব প্রথম মঙ্গলযান পাথফাইন্ডার  মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করে । শুরু হয় মহাকাশে নতুন অধ্যায়। এরপর আরও ৫ টি মঙ্গলযান পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন একটি মঙ্গলযান পারসেভারেন্স  মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করে। এই উপগ্রহে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ও প্রযুক্তি বিষয়ে জানাচ্ছেন- কম্পিউটার প্রোগ্রামার আরমান হাকিম সাগর
একনজরে পারসেভারেন্স  পারসেভারেন্স  বাংলায় করলে যার অর্থ দাড়ায় অধ্যাবসায় । একটি  ছোটখাট গাড়ির সমান আয়তনের এই যান ডিজাইন এবং ম্যানুফ্যাকচার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান  জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি  বা সংক্ষেপে জেপিএল  । এটি গত ৩০ জুলাই ২০২০, জেপিএল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় যা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ মঙ্গলে অবতরণ করে । মঙ্গলে এই মিশনের উদ্দেশ্য প্রাণের উৎসের খোঁজ । সেই সাথে মঙ্গলে পানির খোঁজও করবে পারসেভারেন্স   । এই মঙ্গলযানটি জেজেরো ক্রেটার নামক স্থানে অবতরণ করে । বিজ্ঞানীরা ধারনা করছে যে সেখানে বিলিয়ন বছর আগে পানির প্রবাহ বিদ্যমান ছিল । এর আগেও কয়েকটি  রোভার মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হয়েছে। তাহলে এর বিশেষত কি? আসলে পারসেভারেন্সের  আকৃতি পূর্ববর্তী আরেক মঙ্গলযান কিউরিওসিটি  মতই কিন্তু আপগ্রেডেট । এটাতে স্থাপন করা হয়েছে ১৯ টি বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ক্যামেরা এবং ২ টি মাইক্রোফোন । যার ফলে প্রথমবারের মত আমরা মঙ্গল গ্রহের শব্দ শুনতে পারব । এছাড়াও এটা বিভিন্ন জায়গা হতে বিভিন্ন ধরনের মাটি পাথর সংগ্রহ করে বিল্ট ইন টিউবে সংরক্ষণ করে রাখবে যেন পরবর্তীতে ঐ নমুনা গুলো পরীক্ষা করা যায়। পারসেভারেন্স  মূলত অণুজীবের অস্তিত্বের খোঁজের পাশাপাশি পাথর ও মাটি পরীক্ষা করবে এবং অক্সিজেন নিষ্কাশন করবে। এতে করে মঙ্গলে বাস করার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বাধা দুর হবে এবং পরবর্তিতে মঙ্গলগ্রহেই অক্সিজেন তৈরি করে পৃথিবীতে ফেরার জন্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানী প্রস্তুত করতে সক্ষম হবে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে কেন আমরা সহজে মঙ্গল গ্রহে যেতে পারিনা। মুলত জ্বালানী স্বল্পতার কারনেই আমাদের এই ব্যর্থতা। আর জ্বালানী পৃথিবী থেকে প্রায় ৭ - ৮ মাসের মত পথ পারি দিয়ে নিয়ে যাওয়া যেরকম ব্যয়বহুল সেরকমই অসম্ভবও বটে। তাই বিজ্ঞানীরা চিন্তা করছে মঙ্গল গ্রহের জ্বালানী দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসা যায় কিনা।  এই মিশন সফল হলে সেদিন খুব দুরে নেই যখন মঙ্গলগ্রহে যাওয়াও সহজলভ্য হয়ে যাবে। এছাড়াও এর  সবচেয়ে বেশি চমকপ্রদ দিক হচ্ছে যে , যানটিতে ইনজেনুইটি  নামের একটি ড্রোন  রয়েছে । যার ফলে প্রথমবারের মত কোন অন্য গ্রহে উড়ন্ত যান চালনা করা হবে । যেটা আসলেই মজার  একটা প্রাপ্তি । একনজরে  ইনজেনুইটি ড্রোন পৃথিবীর পর প্রথমবারের মত কোন গ্রহে ড্রোন উড়তে যাচ্ছে। ড্রোনটি একবারে ১.৫ মিনিটের মত উড়তে পারবে।  রাইট ব্রাদারেরা যখন প্রথমবারের মত পৃথিবীতে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করে তখন তা মাত্র কয়েক সেকেন্ড  স্থায়ী হয়। সেক্ষেত্রে ইনজেনুইটি যে অনেক এগিয়ে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ইনজেনুইটির কাজ হল মুলত এটা দেখা যে মঙ্গলের বুকে কোন ফ্লাইট সম্ভব কি না। এটাকে ৩-৫ মিটার উঁচুতে উড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর রেঞ্জ হবে প্রায় ৫০ মিটার তারপর আবার সে তার নিজের জায়গায় ফিরে আসবে। এটি পারসেভারেন্স এর সাথে যোগাযোগ করতে থাকবে এবং জেপিএল  ল্যাবরেটরিতে যাবতীয় ডেটা প্রেরণ করবে। যদি এটি প্রত্যাশার মতো কাজ করে তবে নাসার ভবিষ্যতের মঙ্গল বিমানের মিশনগুলির নকশা তৈরি করা সহজ হবে। তবে পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলের বায়ুমন্ডল খুব পাতলা হওয়ায় পৃথিবীতে একটি হেলিকপ্টার বা ড্রোন উড়ানো যত সহজ মঙ্গল গ্রহে ততটা সহজ নয়। বিজ্ঞানীদের এজন্যে অনেক গানিতিক ক্যালকুলেশন করতে হয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল যে এই ড্রোনটিকে চালনা করতে আমাদের বহুল পরিচিত লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এবং প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম কোম্পানির স্ন্যাপড্রাগন ৮০১। এই ড্রোন উতক্ষেপনের মধ্যে দিয়ে মঙ্গল যাত্রায় মানব জাতি আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। এর পিছনে কম্পিউটার বিজ্ঞানের অবদান কতটুকু? যানটির দুটি  PowerPC 750 আর্কিটেকচারে নির্মিত  BAE RAD 750 প্রসেসর  রয়েছে যার মধ্যে একটি সাধারণত সচল থাকে। যাতে করে কোন সমস্যা হলে অন্যান্য কম্পিউটার প্রসেসরকে  নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মিশন চালিয়ে যেতে বাকি প্রসেসরটি দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়া যায়। এতে তথ্য ধারণের জন্যে রয়েছে ২ গিগাবাইট ফ্ল্যাশ মেমরি,  ২৫৬ মেগাবাইট ডায়নামিক র‍্যানডম অ্যাক্সেস মেমরি এবং ২৫৬ কিলোবাইট রিড অনলি মেমরি । অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এতে রয়েছে VxWorks এর রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম বা RTOS । যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এম্বেডেড কম্পিউটিং সিস্টেম চালনার জন্য সর্বোচ্চ মান পূরণ করতে হয় এমন সমস্ত কার্য সম্পাদন, নির্ভরযোগ্যতা, সুরক্ষা সরবরাহ করে । একটি নির্জন গ্রহে যেখানে মেশিনকে নিজে নিজে কাজ করতে হলে  এবং মেশিনের সাথে ভালভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে একটি বিশেষায়িত অপারেটিং সিস্টেম এর দরকার । এই অপারেটিং সিস্টেমে ২৫ লাখের লাইনের অধিক সি  ল্যাঙ্গুয়েজে  কোড করা হয়েছে । মূলত এই মিশনে প্রোগ্রামারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে । যেহেতু মঙ্গলে কোন অপারেটর থাকবেনা মেশিনকে নিজেই নিজেকে চালনা হবে সেহেতু একেবারে নিখুঁত কোডিং প্রয়োজন । কারন সেখানে কোন প্রোগ্রামার থাকবে না ত্রুটিগুলো সমাধান করার জন্যে। এজন্যে নাসার বিজ্ঞানীরা বারবার কোড গুলো যাচাই করেছে। একটা বাগ শুন্য প্রোগ্রাম তৈরি করা যে কেমন কঠিন তা শুধু মাত্র প্রোগ্রামাররাই বলতে পারবে। তাও আবার এরকম মিলিয়ন লাইনের মেগা প্রজেক্টের কোড। এই মিশনে ব্যবহৃত যত প্রযুক্তি যেকোন মহাকাশ অভিযানে বিগ ডাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রাখে। একটা মিশনে যে পরিমাণ ডাটা তৈরি হয় তা সাধারণ কম্পিউটারে অ্যানালাইসিস করা সম্ভব নয়। এসব ডাটার পরিমাণ পেটাবাইট (1 PB = 8 * 10^6 GB ) যা অস্বাভাবিকভাবে বিশাল। আবার এসব ডাটা এত দ্রুত পরিবর্তনশীল যে সাধারণ ভাবে প্রসেসিং প্রক্রিয়া করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে  জেপিএল এবং নাসা  দুইটা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে, একটা তাদের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও সেখানকার বিজ্ঞানীদের সাথে সংযোগ করতে এবং অন্যটা মঙ্গলগ্রহের মত  প্রকল্পের ডাটা প্রসেস করতে। এখানে এত ডাটা যে এসব ডাটা অ্যানালাইসিস করতে বিশেষ প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে হয় যেমন মেশিন লার্নিং। যেই জেজেরো ক্রেটারে এটা অবতরণ করে সেই স্থানও মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষালব্ধ ফলাফল অনুমান এর ক্ষেত্রে মেশিন লার্নিং খুব কার্যকর একটা পদ্ধতি। যা হয়ত সাধারণ পদ্ধতিতে করলে অনেক সময়সাপেক্ষ। পারসেভারেন্স রোভার  যেই ছবিগুলো পাঠায় সেগুলো অনেক লো রেজ্যুলেশন হতে পারে  আবার ছবিগুলো নষ্ট ও হতে পারে, যেকারনে ইমেজ প্রসেসিং ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন অ্যালগরিদম প্রয়োগ করা হয়। একটি অচেনা গ্রহে যেখানে কোন নির্দেশনা দেওয়ার মত নেই সেখানে অভিযান চালাতে হলে রোভারকে কিছু তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক্ষেত্রে ডিপ লার্নিং সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি । কেননা যখন রোভার কোন শিলা বা পাথর পরীক্ষা করার জন্যে নির্বাচন করে তখন নির্দিষ্ট কোন শিলা নয় বরং সে দেখবে যে শিলা পরীক্ষার জন্যে সবচেয়ে ভাল সেটা নির্বাচন করবে। পারসেভারেন্স এর সাথে আমরা যোগাযোগ করব কিভাবে পারসেভারেন্সে তিনটি এন্টেনা রয়েছে। প্রথমটি হল আলট্রা হাই ফ্রিকুয়েন্সি এন্টেনা  ,  এর ফ্রিকুয়েন্সি প্রায় ৪০০  মেগাহার্জ । পৃথিবীর সাথে এর দ্বারা যোগাযোগ করতে ৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে যা পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের অবস্থানের উপর নির্ভর করে। এর ট্রান্সমিশন রেট প্রতি সেকেন্ডে প্রায়  ২ মেগাবিটস  যা মূলত কক্ষপথের  স্যাটেলাইটের সাথে যোগাযোগ করে থাকে । দ্বিতীয় আরেকটি এন্টেনা এক্স-ব্যান্ড হাই-গেইন এন্টেনা। এটি মূলত পৃথিবীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্যে ব্যবহৃত হয়। এর ফ্রিকুয়েন্সি প্রায় ৭ - ৮ গিগাহার্জ।  ষড়ভুজাকৃতির এই এন্টেনার ব্যাস প্রায় ১ ফুট। এটি রোভারটির পিছনে স্থাপন করা আছে যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে পৃথিবী অভিমুখী হয়ে সংকেত পাঠাতে পারে। এর ট্রান্সমিশন রেট প্রতি সেকেন্ডে প্রায়  ১৬০ - ৮০০ বিটস এবং রিসিপশন রেট প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ - ৩০০০ বিটস। এটির নির্মাতা স্পেন। এছাড়াও তৃতীয় আরেকটি এন্টেনা এক্স-ব্যান্ড লো-গেইন এন্টেনা, এটি মূলত সংকেত গ্রহণের জন্যে ব্যবহৃত হয় যার রেঞ্জ প্রায় ৭ - ৮ গিগাহার্জ। এই মিশনে  প্রোগ্রামিং ব্যবহার আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি এই প্রজেক্টে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে সি  প্রোগ্রামিং রয়েছে। সি  ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করার অন্যতম কারণ হল এটি অসম্ভব রকমের ফাস্ট। এছাড়া হার্ডওয়্যার এর সাথে এম্বেডেড করা যায় সহজে। প্রশ্ন আসতে পারে পাইথন দিয়েও তো করা যেত তাহলে পাইথন ব্যবহার করা হলোনা কেন? আসলে পাইথন নিজেই সি  এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। তাছাড়া যেসব কার্নেল দিয়ে মূলত অপারেটিং সিস্টেমগুলো তৈরি করা হয় সেখানে প্রায় শতকরা  ৯৫ ভাগ সি  ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এতক্ষণে হয়ত বুঝতেই পেরেছেন সি এর গুরুত্ব এখানে কেমন। তাছাড়া সি  দিয়ে কোর মেমরি অ্যাক্সেস করা যায় সহজে। যদিও জেপিএল  এখনো প্রকাশ করেনি আর  কি কি ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজ করা হয়েছে। তবে  সি  এর যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। হার্ডওয়্যারের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চয়তা করবে এমন প্রতিদ্বন্দ্বী ল্যাঙ্গুয়েজ খুব কম আছে। তাহলে কি আমরা সি  শিখব? আপনি যদি সি  জানেন, তাহলে আপনি শুধুমাত্র প্রোগ্রাম কিভাবে কাজ করে তাই জানবেন না। বরং আপনি মেমোরি ম্যানেজমেন্ট এবং বরাদ্দ সহ কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে তার একটি মডেল তৈরি করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং এ সি  যে স্বাধীনতা দিয়ে থাকে আপনি তার তারিফ করবেন। কেননা অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন- পাইথন এবং জাভা এই সুবিধা দেয় না। আপনি যদি একবার সি  বুঝতে পারেন, তাহলে আপনি এমন এমন প্রোগ্রাম লিখতে পারবেন যে, আপনি ভেবেছিলেন কখনোই এটা আপনার দ্বারা সম্ভব না । অথবা অন্ততপক্ষে, আপনি কম্পিউটার আর্কিটেকচার এবং প্রোগ্রামিং এর উপর বৃহত্তর ধারনা পাবেন। এই ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে আপনি সরাসরি হার্ডওয়্যারকে প্রভাবিত করতে পারবেন এবং এর জন্যে আপনার  কোন থার্ড পার্টি টুলস  লাগবেনা। এছাড়া প্রথমে আপনি সি  কে উপেক্ষা করতে পারেন। কেননা আপনি যদি ওয়েব প্রোগ্রামিং করতে চান তাহলে পিএইচপি, জাভাস্ক্রিপ্ট  বা সি#  কিংবা এম্বেডেড প্রোগ্রামিং করতে গেলে লাগবে পাইথন  বা সি++ । কিন্তু মজার বিষয় হল যে এসব ল্যাঙ্গুয়েজই  সি  এর উপর ভিত্তি করে চলে। এজন্যেই হয়ত একে মাদার অফ  অল ল্যাঙ্গুয়েজ  বলা হয়ে থাকে। আপনি যদি যথাযথ মেমরি ম্যানেজমেন্ট করতে পারেন তাহলে সি  দিয়েও অনেক ভাল কোড লিখতে পারবেন। তাছাড়া  সি  এর গুরুত্ব বুঝতে হলে আপনি বর্তমানে প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেম গুলো দেখতে পারেন কিভাবে হার্ডওয়্যারের সাথে সফটওয়ারের সংযোগ এতটা সহজ হয়েছে। পুরাতন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সময়ে এর গুরুত্ব ফুরিয়ে যায়নি, ভবিষ্যতেও ফুরিয়ে যাবেনা। মঙ্গলগ্রহে বসতি সম্ভব না অসম্ভব পৃথিবীর সাথে মঙ্গলগ্রহের অনেক দিক দিয়ে মিল রয়েছে যেমন এটি পৃথিবীর ন্যায় ২৪ ডিগ্রি কোণে ঘূর্ণায়মান, প্রায় একই দৈর্ঘ্যের সৌর দিবস, ঋতু ও প্রায় একই এবং পাথুরে গ্রহ। কিন্তু তারপরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যেমন, মঙ্গলের গ্র্যাভিটি পৃথিবীর তুলনায় ৩ ভাগের ১ ভাগ। আবার এর বায়ুচাপ পৃথিবীর ১০০ ভাগের ১ ভাগ। যার বায়ুমণ্ডলের শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন ডাই অক্সাইড ৩ ভাগ নাইট্রজেন এবং ১.৬ ভাগ আর্গন যা জীবন ধারণের জন্যে অনুপযুক্ত। এখানে নামমাত্র অক্সিজেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মাটির মুল উপদান মূলত বিষাক্ত লৌহ অক্সাইড দেখতে লাল যা উদ্ভিদের জন্যে মোটেই উপযুক্ত নয়। এছাড়া এখানে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর কোন চৌম্বক ক্ষেত্র নেই যার দরুন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এর মাটিকে অনবরত পুড়িয়ে দিচ্ছে। সুতরাং মঙ্গলগ্রহে বসতি গড়তে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ গ্রহণ করা লাগবে। যেমন, প্রথমেই এতে কৃত্রিম চৌম্বক ক্ষেত্র স্থাপন করতে হবে। নাহলে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর সৌর রশ্মির কারণে সেখানে কোন প্রাণের বিকাশ ঘটবে না। কৃত্রিম ভাবে সেখানে বায়ুমণ্ডল তৈরি করা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে একটা তত্ত্ব দিয়েছে যেখানে তারা বিভিন্ন ভারী গ্যাস যেগুলো কম গ্র্যাভিটির কারণে সহজে বাষ্প হয়ে সেগুলো ব্যবহার করে একটা বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। যাতে করে পরবর্তিতে তাপমাত্রার হার এবং অতিবেগুনি রশ্মির হার কমানো সম্ভব হবে। যদি বায়ুমন্ডল একটা স্থিত অবস্থায় হয় তবে সেখানে বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া,  ফার্ন,  শৈবাল জাতীয়  উদ্ভিদ গুলো রোপন করতে হবে। নভোচারীদের জীবনধারণের এবং খাদ্য চাহিদা পুরনের  জন্যে গ্রীন হাউস তৈরি করে সেখানে উদ্ভিদ চাষ করা যেতে পারে। এক তৃতীয়াংশ গ্র‍্যাভিটি উৎপাদন এবং মাটির উর্বরতার জন্যে যথেষ্ট নয়, একারনে অভিযোজন করতে হবে। কিছু মজার আইডিয়াও রয়েছে যেমন যদি কোন অ্যাস্টেরয়েডে পানি ভরতি করে  মঙ্গলগ্রহে নিক্ষেপ করা যেতে পারে যাতে করে এর গ্র‍্যাভিটি বাড়বে এবং তাপামাত্রাও বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে এর মেরু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গলবে এবং অ্যাস্টেরয়েডের পানি থেকে পানির অনু গঠিত হবে। এছাড়াও এর অভ্যন্তরে লবনের মাধ্যমে কিছু পানি দ্রবীভুত হয়ে আছে যা এর ভুপৃষ্ঠের তিন ভাগের একভাগ পুরন করতে সক্ষম। কিন্তু এই পানি ব্যবহার করতে গেলে সর্বপ্রথম গ্র‍্যাভিটি বাড়াতে হবে নাহলে সমস্ত পানি বাষ্প মহাকাশে চলে যাবে। এসব চিন্তা কয়েকদিন আগেও সাইয়েন্স ফিকশন হিসেবে গন্য হত। কিন্তু এখন আর এগুলো ফিকশন নয়। হয়তবা আগামী কয়েক দশক পর এগুলো বাস্তবে রুপ নেবে। যার শুরু পারসেভারেন্স  সহ অন্যান্য রোভার গুলোর হাত ধরে।
দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।